নিজেদের দোষ ঢাকতে জামায়াত ও তাদের প্রার্থী মিথ্যাচার করছে বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেছেন নোয়াখালী-৫ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মো. ফখরুল ইসলামের প্রধান নির্বাচনি এজেন্ট ও বসুরহাট পৌরসভা বিএনপির সাবেক সভাপতি কামাল উদ্দিন চৌধুরী।
আজ বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় বসুরহাট পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডে বিএনপি প্রার্থী মো. ফখরুল ইসলামের বাসভবনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন তিনি।
এর আগে গতকাল মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) জামায়াত মনোনীত দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী অধ্যক্ষ বেলায়েত হোসেন সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে করা তাঁর অভিযোগের জবাব দিতে উপজেলা বিএনপির পক্ষ আজ পাল্লা সংবাদ সম্মেলন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে কামাল উদ্দিন চৌধুরী বলেন, “এই নির্বাচন শুধু একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নয়। এটি জনগণের আশা, অধিকার ও ভবিষ্যৎ নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত কিন্তু নির্বাচনি পরিবেশ নষ্ট করতে এবং নিজেদের দোষ ঢাকতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী সংবাদ সম্মেলন করে অনেকগুলো মিথ্যা ও কাল্পনিক অভিযোগ করেছেন। যা সম্পূর্ণ ভুয়া ও ভিত্তিহীন। এ ধরনের কাজে বিএনপির প্রার্থী নয়, জামায়াত ও তাদের প্রার্থীরা জড়িত রয়েছে।
কামাল উদ্দিন চৌধুরী জামায়াত প্রার্থীর বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, “তথ্য রয়েছে তারাই আজ (১১ ফেব্রুয়ারি) বুধবার বসুরহাট পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের গরু বাজার এলাকায় টাকা বিলি করেছে। এছাড়া বহিরাগত লোকজন জড়ো করে এই নির্বাচনি এলাকার (নোয়াখালী-৫) শান্ত পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা চালাচ্ছে।”
সংবাদ সম্মেলন থেকে জানানো হয়, নোয়াখালী-৫ নির্বাচনি এলাকাটি চারটি উপজেলার সীমানা বেষ্টিত। সুযোগটি কাজে লাগিয়ে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ও তার দল এ এলাকায় অবাঞ্ছিত লোক প্রবেশ করিয়ে নির্বাচনে বিঘ্ন ঘটানোর অপপ্রয়াস চালাতে পারে। যা ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরিসহ নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এ ব্যাপারে এ ব্যাপারে তারা প্রশাসনে সতর্ক দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে।
কামাল উদ্দিন চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, “ইতোমধ্যে বসুরহাট পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডে বহিরাগত কিছু ভুয়া ভোটারের তথ্য পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে আজ (১১ ফেব্রুয়ারি) বুধবার বিকালে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী ও তার দল আচরণবিধি লঙ্ঘন করে কবিরহাট উপজেলার ৭নং ঘোষবাগ ইউনিয়নে দুই শতাধিক জামায়াত কর্মীকে জড়ো করছে। একই উপজেলার নরোত্তমপুর ইউনিয়নের করমবক্স বাজার সংলগ্ন নিজাম মাস্টারের বাড়িতে জামায়াতে ইসলামীর সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। যা নির্বাচনি আচরণবিধির সম্পূর্ণ লঙ্ঘন বলে দাবি করেন তিনি। বিষয়গুলো তারা প্রশাসনের নজরে এনেছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, জামায়াত ও তাদের প্রার্থীর এসকল অভিযোগ হীন স্বার্থ চরিতার্থ করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টা মাত্র। এ বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল হাই সেলিম, জেলা বিএনপির সদস্য বেলায়েত হোসেন স্বপন, বিএনপি নেত্রী ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী নেত্রী ব্যারিস্টার পারভীন কাওসার মুন্নী, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক নূরুল আলম শিকদার, সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুর রহমান রিপন, পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুল মতিন লিটন, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন ও উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ফজলুল কবির ফয়সালসহ কোম্পানীগঞ্জ ও কবিরহাট উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
নিউজলাইভ/১১ফেব্রুয়ারি/পিএস
নিজস্ব প্রতিবেদক, নিউজ লাইভ 



















