০২:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
ডে কেয়ার সেন্টার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বিকাশের অন্যতম ভিত্তি : জুবাইদা রহমান - NewsLiveBD.com

ডে কেয়ার সেন্টার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বিকাশের অন্যতম ভিত্তি : জুবাইদা রহমান

ছবি সংগৃহীত

জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. জুবাইদা রহমান বলেছেন, শিশু দিবাযত্ন (ডে কেয়ার) কেন্দ্র কেবল শিশুদের নিরাপদে রাখার স্থান নয়; এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বিকাশ ও দেশ গঠনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। দক্ষ ও দায়িত্বশীল কেয়ারগিভারদের কারণে কর্মজীবী নারীরা নিশ্চিন্তে কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করতে পারেন এবং শিশুরা প্রয়োজনীয় পরিচর্যা ও বিকাশের অনুকূল পরিবেশ পায়।

সোমবার (৬ জুলাই) রাজধানীর পান্থপথে পানি ভবনের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘শিশুর প্রারম্ভিক যত্ন ও বিকাশ’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জুবাইদা রহমান বলেন, শিশুর জীবনের প্রারম্ভিক সময়ই তার শারীরিক, মানসিক, বুদ্ধিবৃত্তিক ও সামাজিক বিকাশের ভিত্তি নির্মাণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়। এ সময়ে মানসম্মত পরিচর্যা নিশ্চিত করা গেলে একজন শিশুর মধ্যে মানবিকতা, শৃঙ্খলাবোধ, সহনশীলতা, শিক্ষার প্রতি আগ্রহ এবং সামাজিক মূল্যবোধের দৃঢ় ভিত্তি গড়ে ওঠে।

তিনি বলেন, দেশের বিপুলসংখ্যক কর্মজীবী মা এখনও সন্তান পরিচর্যার ক্ষেত্রে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন। নিরাপদ ও মানসম্মত দিবাযত্ন কেন্দ্রের স্বল্পতা তাদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বর্তমানে দেশে ১২৩টি শিশু বিকাশ কেন্দ্রের মাধ্যমে মাত্র ৭ হাজার ৩৬০ জন শিশু সেবা পাচ্ছে, যা দেশের মোট শিশু জনসংখ্যার তুলনায় অত্যন্ত সীমিত। এ কারণে শিশুর প্রারম্ভিক যত্ন ও বিকাশ নিশ্চিত করতে দিবাযত্ন কেন্দ্রের সংখ্যা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, কেয়ারগিভাররা শুধু শিশুদের পরিচর্যাই করেন না; তারা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চরিত্র গঠনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাদের স্নেহ, মমতা ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে শিশুদের মধ্যে সততা, মানবিকতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, শৃঙ্খলা ও সামাজিক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটে। একই সঙ্গে তাদের অবদান নারীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ আরও বিস্তৃত করে।

ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, মানসম্মত প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা এবং শিশুর প্রারম্ভিক যত্ন ও বিকাশ নিশ্চিত করা গেলে জ্ঞানভিত্তিক, দক্ষ ও মানবিক ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব হবে। এ লক্ষ্যে দেশের সব অঞ্চলে শিশুর প্রারম্ভিক যত্ন ও বিকাশ-সংশ্লিষ্ট সেবার সম্প্রসারণ প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদুর রহমান বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শুধু রক্তের উত্তরাধিকার নয়, আদর্শের উত্তরাধিকারও বহন করছেন। সাবেক প্রায়ত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে আর বর্তমানে তার সুযোগ সন্তান তারেক রহমানের হাত ধরে সেটার আরও সম্প্রসারণ ও মানোন্নয়ন এর পথ সৃষ্টি হচ্ছে।

কর্মশালায় ‘শিশুর প্রারম্ভিক যত্ন ও বিকাশ’ শীর্ষক ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন ২০টি শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (শিশু সমন্বয়) শবনম মোস্তারী।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন পানিসম্পদবিষয়ক মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমীন পুতুল এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমীন পারভীন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

ডে কেয়ার সেন্টার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বিকাশের অন্যতম ভিত্তি : জুবাইদা রহমান

আপডেট: ০৩:৩৭:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. জুবাইদা রহমান বলেছেন, শিশু দিবাযত্ন (ডে কেয়ার) কেন্দ্র কেবল শিশুদের নিরাপদে রাখার স্থান নয়; এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বিকাশ ও দেশ গঠনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। দক্ষ ও দায়িত্বশীল কেয়ারগিভারদের কারণে কর্মজীবী নারীরা নিশ্চিন্তে কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করতে পারেন এবং শিশুরা প্রয়োজনীয় পরিচর্যা ও বিকাশের অনুকূল পরিবেশ পায়।

সোমবার (৬ জুলাই) রাজধানীর পান্থপথে পানি ভবনের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘শিশুর প্রারম্ভিক যত্ন ও বিকাশ’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জুবাইদা রহমান বলেন, শিশুর জীবনের প্রারম্ভিক সময়ই তার শারীরিক, মানসিক, বুদ্ধিবৃত্তিক ও সামাজিক বিকাশের ভিত্তি নির্মাণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়। এ সময়ে মানসম্মত পরিচর্যা নিশ্চিত করা গেলে একজন শিশুর মধ্যে মানবিকতা, শৃঙ্খলাবোধ, সহনশীলতা, শিক্ষার প্রতি আগ্রহ এবং সামাজিক মূল্যবোধের দৃঢ় ভিত্তি গড়ে ওঠে।

তিনি বলেন, দেশের বিপুলসংখ্যক কর্মজীবী মা এখনও সন্তান পরিচর্যার ক্ষেত্রে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন। নিরাপদ ও মানসম্মত দিবাযত্ন কেন্দ্রের স্বল্পতা তাদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বর্তমানে দেশে ১২৩টি শিশু বিকাশ কেন্দ্রের মাধ্যমে মাত্র ৭ হাজার ৩৬০ জন শিশু সেবা পাচ্ছে, যা দেশের মোট শিশু জনসংখ্যার তুলনায় অত্যন্ত সীমিত। এ কারণে শিশুর প্রারম্ভিক যত্ন ও বিকাশ নিশ্চিত করতে দিবাযত্ন কেন্দ্রের সংখ্যা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, কেয়ারগিভাররা শুধু শিশুদের পরিচর্যাই করেন না; তারা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চরিত্র গঠনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাদের স্নেহ, মমতা ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে শিশুদের মধ্যে সততা, মানবিকতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, শৃঙ্খলা ও সামাজিক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটে। একই সঙ্গে তাদের অবদান নারীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ আরও বিস্তৃত করে।

ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, মানসম্মত প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা এবং শিশুর প্রারম্ভিক যত্ন ও বিকাশ নিশ্চিত করা গেলে জ্ঞানভিত্তিক, দক্ষ ও মানবিক ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব হবে। এ লক্ষ্যে দেশের সব অঞ্চলে শিশুর প্রারম্ভিক যত্ন ও বিকাশ-সংশ্লিষ্ট সেবার সম্প্রসারণ প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদুর রহমান বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শুধু রক্তের উত্তরাধিকার নয়, আদর্শের উত্তরাধিকারও বহন করছেন। সাবেক প্রায়ত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে আর বর্তমানে তার সুযোগ সন্তান তারেক রহমানের হাত ধরে সেটার আরও সম্প্রসারণ ও মানোন্নয়ন এর পথ সৃষ্টি হচ্ছে।

কর্মশালায় ‘শিশুর প্রারম্ভিক যত্ন ও বিকাশ’ শীর্ষক ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন ২০টি শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (শিশু সমন্বয়) শবনম মোস্তারী।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন পানিসম্পদবিষয়ক মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমীন পুতুল এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমীন পারভীন।