০৭:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
লোডশেডিং বাড়ার কারণ চাহিদা বৃদ্ধি : বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী - NewsLiveBD.com

লোডশেডিং বাড়ার কারণ চাহিদা বৃদ্ধি : বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

ছবি সংগৃহীত

তীব্র তাপপ্রবাহ, বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা এবং কৃষিতে চাহিদা বাড়ার কারণেই সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যুতের সংকট তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

সোমবার (৬ জুলাই) বিদ্যুৎ ভবনে আয়োজিত বর্তমান সরকারের বিদ্যুৎ খাতের অগ্রাধিকার, জনকল্যাণে গৃহীত ব্যবস্থা, মিটার ভাড়া এবং জুন ২০২৬ মাসের বিদ্যুৎ বিল সংক্রান্ত বিদ্যুৎ বিভাগের বক্তব্য বিষয়ক এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হচ্ছে দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য নিরবচ্ছিন্ন, নির্ভরযোগ্য ও মানসম্মত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ খাতকে আর্থিকভাবে টেকসই করা, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি করা।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে তুলনামূলক কম বৃষ্টিপাত, ঈদুল আজহা, গ্রীষ্মকালীন অতিরিক্ত তাপমাত্রা, চলমান ফুটবল বিশ্বকাপ এবং এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার কারণে সারাদেশে বিদ্যুতের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে বাসাবাড়িতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, ফ্যান, রেফ্রিজারেটরসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রের ব্যবহারও আগের তুলনায় অনেক বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। আমাদের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেও বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সামগ্রী, ফ্রিজ, টিভি, রাইস কুকার, ব্লেন্ডার ও ইলেকট্রিক কেটলির ব্যবহার উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলছে এই বিষয়টিও।

তিনি আরও বলেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রে জুন মাসের বিল বৃদ্ধি শুধুমাত্র ট্যারিফ বৃদ্ধির কারণে নয়, বরং বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ার কারণেও হয়েছে। আবাসিক গ্রাহকদের ক্ষেত্রে ব্যবহারের পরিমাণ বাড়লে উচ্চতর স্ল্যাবে বিল গণনা হওয়ায় মোট বিল তুলনামূলক বেশি হতে পারে। তবে, কতিপয় ক্ষেত্রে কিছু করণিক ভুল পাওয়া যাচ্ছে এবং সেগুলোর বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে যথাযথ প্রতিকার দেওয়া হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি অব্যাহত রেখেছে, যাতে গ্রাহকদের ওপর ব্যয়ের সম্পূর্ণ চাপ না পড়ে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার দক্ষতা বৃদ্ধি, সিস্টেম লস কমানো, প্রি-পেইড ও স্মার্ট মিটারিং সম্প্রসারণ এবং সেবার মান উন্নয়নে সরকার কাজ করছে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিরানা মাহরুখ বলেন, সম্প্রতি জুন মাসের বিদ্যুৎ বিল নিয়ে জনমনে কিছু প্রশ্ন ও উদ্বেগ সৃষ্টি হযেছে। বিষয়টি নিয়ে বেশ কয়েকটি গণমাধ্যম সংবাদ পরিবেশন করেছে। পাশাপাশি, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সম্মানিত কন্টেন্ট ক্রিয়েটররা সোশ্যাল মিডিয়াতে কয়েকজন গ্রাহকের অভিযোগ উপস্থাপন করেছেন। বিদ্যুৎ বিভাগ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রকৃত সত্য তুলে আনার জন্য সব বিতরণ সংস্থাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছে।

তিনি বলেন, এ বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীরও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এবং তিনি নিজে বিষয়টি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছেন। সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহ অভিযোগ প্রাপ্তির পর তাৎক্ষণিকভাবে অভিযোগ নিষ্পত্তির উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এবং সিংহভাগ অভিযোগই ইতোমধ্যে নিষ্পন্ন হয়েছে। এক্ষেত্রে কারও দায়িত্বে অবহেলা কিংবা গ্রাহক হয়রানির সংশ্লেষ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ সচিব বলেন, আপনাদের সবার নিশ্চয়ই মনে আছে, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন জুন থেকে বিদ্যুতের জন্য নতুন ট্যারিফের কার্যকর হয়েছে। তবে সরকার নিম্ন আয়ের গ্রাহকদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। এবারই প্রথম বিদ্যুৎ বিভাগের অনুরোধে প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের (লাইফলাইন ও প্রথম ধাপের আবাসিক) গ্রাহকদের ক্ষেত্রে পূর্বের ট্যারিফ বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মধ্য বা উচ্চ আয়ের গ্রাহকদের ওপর যেন অতিরিক্ত আর্থিক চাপ না পড়ে, সেই বিষয়টির প্রতি লক্ষ্য রেখে বিদ্যুতের ট্যারিফ সহনীয় পর্যায়ে রাখা সর্বাত্মক চেষ্টা করা হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

লোডশেডিং বাড়ার কারণ চাহিদা বৃদ্ধি : বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

আপডেট: ০৩:৪২:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

তীব্র তাপপ্রবাহ, বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা এবং কৃষিতে চাহিদা বাড়ার কারণেই সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যুতের সংকট তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

সোমবার (৬ জুলাই) বিদ্যুৎ ভবনে আয়োজিত বর্তমান সরকারের বিদ্যুৎ খাতের অগ্রাধিকার, জনকল্যাণে গৃহীত ব্যবস্থা, মিটার ভাড়া এবং জুন ২০২৬ মাসের বিদ্যুৎ বিল সংক্রান্ত বিদ্যুৎ বিভাগের বক্তব্য বিষয়ক এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হচ্ছে দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য নিরবচ্ছিন্ন, নির্ভরযোগ্য ও মানসম্মত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ খাতকে আর্থিকভাবে টেকসই করা, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি করা।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে তুলনামূলক কম বৃষ্টিপাত, ঈদুল আজহা, গ্রীষ্মকালীন অতিরিক্ত তাপমাত্রা, চলমান ফুটবল বিশ্বকাপ এবং এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার কারণে সারাদেশে বিদ্যুতের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে বাসাবাড়িতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, ফ্যান, রেফ্রিজারেটরসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রের ব্যবহারও আগের তুলনায় অনেক বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। আমাদের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেও বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সামগ্রী, ফ্রিজ, টিভি, রাইস কুকার, ব্লেন্ডার ও ইলেকট্রিক কেটলির ব্যবহার উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলছে এই বিষয়টিও।

তিনি আরও বলেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রে জুন মাসের বিল বৃদ্ধি শুধুমাত্র ট্যারিফ বৃদ্ধির কারণে নয়, বরং বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ার কারণেও হয়েছে। আবাসিক গ্রাহকদের ক্ষেত্রে ব্যবহারের পরিমাণ বাড়লে উচ্চতর স্ল্যাবে বিল গণনা হওয়ায় মোট বিল তুলনামূলক বেশি হতে পারে। তবে, কতিপয় ক্ষেত্রে কিছু করণিক ভুল পাওয়া যাচ্ছে এবং সেগুলোর বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে যথাযথ প্রতিকার দেওয়া হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি অব্যাহত রেখেছে, যাতে গ্রাহকদের ওপর ব্যয়ের সম্পূর্ণ চাপ না পড়ে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার দক্ষতা বৃদ্ধি, সিস্টেম লস কমানো, প্রি-পেইড ও স্মার্ট মিটারিং সম্প্রসারণ এবং সেবার মান উন্নয়নে সরকার কাজ করছে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিরানা মাহরুখ বলেন, সম্প্রতি জুন মাসের বিদ্যুৎ বিল নিয়ে জনমনে কিছু প্রশ্ন ও উদ্বেগ সৃষ্টি হযেছে। বিষয়টি নিয়ে বেশ কয়েকটি গণমাধ্যম সংবাদ পরিবেশন করেছে। পাশাপাশি, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সম্মানিত কন্টেন্ট ক্রিয়েটররা সোশ্যাল মিডিয়াতে কয়েকজন গ্রাহকের অভিযোগ উপস্থাপন করেছেন। বিদ্যুৎ বিভাগ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রকৃত সত্য তুলে আনার জন্য সব বিতরণ সংস্থাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছে।

তিনি বলেন, এ বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীরও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এবং তিনি নিজে বিষয়টি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছেন। সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহ অভিযোগ প্রাপ্তির পর তাৎক্ষণিকভাবে অভিযোগ নিষ্পত্তির উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এবং সিংহভাগ অভিযোগই ইতোমধ্যে নিষ্পন্ন হয়েছে। এক্ষেত্রে কারও দায়িত্বে অবহেলা কিংবা গ্রাহক হয়রানির সংশ্লেষ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ সচিব বলেন, আপনাদের সবার নিশ্চয়ই মনে আছে, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন জুন থেকে বিদ্যুতের জন্য নতুন ট্যারিফের কার্যকর হয়েছে। তবে সরকার নিম্ন আয়ের গ্রাহকদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। এবারই প্রথম বিদ্যুৎ বিভাগের অনুরোধে প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের (লাইফলাইন ও প্রথম ধাপের আবাসিক) গ্রাহকদের ক্ষেত্রে পূর্বের ট্যারিফ বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মধ্য বা উচ্চ আয়ের গ্রাহকদের ওপর যেন অতিরিক্ত আর্থিক চাপ না পড়ে, সেই বিষয়টির প্রতি লক্ষ্য রেখে বিদ্যুতের ট্যারিফ সহনীয় পর্যায়ে রাখা সর্বাত্মক চেষ্টা করা হয়েছে।