০১:২১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
আধুনিক ফুটবলের ‘সবচেয়ে সেরা’ কোচ হওয়ার দ্বারপ্রান্তে স্কালোনি - NewsLiveBD.com

আধুনিক ফুটবলের ‘সবচেয়ে সেরা’ কোচ হওয়ার দ্বারপ্রান্তে স্কালোনি

২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপের পর আর্জেন্টাইন ফুটবলের চিত্রটা ছিল চরম অগোছালো ও হতাশাজনক। চার বছর আগে বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলা দলটি এবার শেষ ষোলো থেকে বিদায় নেয়। এরপর যখন বড় বড় কোচরা আলবিসেলেস্তেদের ‘তপ্ত হটসিটে’ বসার প্রস্তাব ফেরাচ্ছিলেন, তখন সবাইকে চমকে দিয়ে দৃশ্যপটে লিওনেল স্কালোনি। আর তিনিই এখন আধুনিক ফুটবলের ‘সবচেয়ে সেরা’ কোচ হওয়ার দ্বারপ্রান্তে!

৪৮ বছর বয়সী কোচ স্কালোনির অধীনে প্রথমবারই বিশ্বকাপে বাজিমাত করে লিওনেল মেসির দল। সাড়ে তিন দশকের অপেক্ষা শেষে আর্জেন্টিনা তৃতীয় বিশ্বশিরোপা ঘরে তোলে। এবার টানা দ্বিতীয় আসরের ফাইনাল খেলার অপেক্ষায় স্কালোনির শিষ্যরা। আগামীকাল (রোববার) দিবাগত রাত ১টায় নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে তারা ইতিহাস গড়ার লক্ষ্যে স্পেনের মুখোমুখি হবে।

ইতিহাসে মাত্র দুটি দেশ পরপর দুই বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হতে পেরেছে। ১৯৩৪ ও ১৯৩৮ বিশ্বকাপে ইতালি এবং ১৯৫৮ ও ১৯৬২ বিশ্বকাপে বিজয়োল্লাস করেছিল ব্রাজিল। আর্জেন্টিনারও এবার সেই রেকর্ডে নিজের নামটি খোদাই করার বড় সুযোগ রয়েছে। তবে পরপর দুই বিশ্বকাপেই কোচ হিসেবে বিশ্বরেকর্ডটি কেবল একজনের দখলে আছে। তিনি হচ্ছেন ইতালিয়ান কিংবদন্তি ভিত্তোরিও পোজ্জো। ইতালির দু’বার বিশ্বসেরা হওয়ার মঞ্চেই তিনি ডাগআউটের দায়িত্বে ছিলেন।

অন্যদিকে, ১৯৫৮ ও ১৯৬২ সালের বিশ্বকাপে ব্রাজিলের কোচ ছিলেন যথাক্রমে ভিসেন্তে ফিওলা এবং আইমোর মোরেরা। অর্থাৎ, দল হিসেবে ব্রাজিল পরপর বিশ্বকাপ জিতলেও তাদের ডাগআউটে ছিলেন ভিন্ন দুজন কোচ। এখন পর্যন্ত ২২টি বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কীর্তি আছে ২১ কোচের। তবে ৫ জন কোচ একবার করে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ হয়েছেন। রোববারের ফাইনালে আর্জেন্টিনা না জিতলে সেই এলিট লিস্টে ঢুকে যাবেন স্কালোনি। আর চ্যাম্পিয়ন হলে হবেন সবমিলিয়ে মাত্র দ্বিতীয় এবং আধুনিক ফুটবলের প্রথম কোচ হিসেবে দুটি বিশ্বকাপজয়ী কোচ।

একবার করে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এবং রানার্সআপ হওয়ার রেকর্ড রয়েছে– জার্মানির হেলমুট শ্যুন (১৯৭৪ চ্যাম্পিয়ন, ১৯৬৬ রানার্সআপ) ও ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার (১৯৯০ চ্যাম্পিয়ন, ১৯৮৬ রানার্সআপ), আর্জেন্টিনার কার্লোস সালভাদোর বিলার্দো (১৯৮৬ চ্যাম্পিয়ন, ১৯৯০ রানার্সআপ), ব্রাজিলের মারিও জাগালো (১৯৭০ চ্যাম্পিয়ন, ১৯৯৮ রানার্সআপ) এবং ফ্রান্সের দিদিয়ের দেশম (২০১৮ চ্যাম্পিয়ন, ২০২২ রানার্সআপ)।

বিশ্বকাপজয়ী ২১ কোচই নিজ নিজ দেশকে এই মেগা টুর্নামেন্টে পরিচালনা করেছেন। বিদেশি কোনো কোচ জেতার সুযোগ নেই চলতি আসরেও। স্কালোনি আর্জেন্টিনার এবং স্পেনের হয়ে স্বদেশি লুইস দে লা ফুয়েন্তে নামবেন ফাইনালের মঞ্চে। ব্রাজিলকে ১৯৯৪ বিশ্বকাপ জেতানো কার্লোস আলবার্তো পেরেইরা একমাত্র কোচ হিসেবে পাঁচটি ভিন্ন দেশকে ৬ বিশ্বকাপে পরিচালনা করেছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

আধুনিক ফুটবলের ‘সবচেয়ে সেরা’ কোচ হওয়ার দ্বারপ্রান্তে স্কালোনি

আপডেট: ০৪:৩৫:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপের পর আর্জেন্টাইন ফুটবলের চিত্রটা ছিল চরম অগোছালো ও হতাশাজনক। চার বছর আগে বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলা দলটি এবার শেষ ষোলো থেকে বিদায় নেয়। এরপর যখন বড় বড় কোচরা আলবিসেলেস্তেদের ‘তপ্ত হটসিটে’ বসার প্রস্তাব ফেরাচ্ছিলেন, তখন সবাইকে চমকে দিয়ে দৃশ্যপটে লিওনেল স্কালোনি। আর তিনিই এখন আধুনিক ফুটবলের ‘সবচেয়ে সেরা’ কোচ হওয়ার দ্বারপ্রান্তে!

৪৮ বছর বয়সী কোচ স্কালোনির অধীনে প্রথমবারই বিশ্বকাপে বাজিমাত করে লিওনেল মেসির দল। সাড়ে তিন দশকের অপেক্ষা শেষে আর্জেন্টিনা তৃতীয় বিশ্বশিরোপা ঘরে তোলে। এবার টানা দ্বিতীয় আসরের ফাইনাল খেলার অপেক্ষায় স্কালোনির শিষ্যরা। আগামীকাল (রোববার) দিবাগত রাত ১টায় নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে তারা ইতিহাস গড়ার লক্ষ্যে স্পেনের মুখোমুখি হবে।

ইতিহাসে মাত্র দুটি দেশ পরপর দুই বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হতে পেরেছে। ১৯৩৪ ও ১৯৩৮ বিশ্বকাপে ইতালি এবং ১৯৫৮ ও ১৯৬২ বিশ্বকাপে বিজয়োল্লাস করেছিল ব্রাজিল। আর্জেন্টিনারও এবার সেই রেকর্ডে নিজের নামটি খোদাই করার বড় সুযোগ রয়েছে। তবে পরপর দুই বিশ্বকাপেই কোচ হিসেবে বিশ্বরেকর্ডটি কেবল একজনের দখলে আছে। তিনি হচ্ছেন ইতালিয়ান কিংবদন্তি ভিত্তোরিও পোজ্জো। ইতালির দু’বার বিশ্বসেরা হওয়ার মঞ্চেই তিনি ডাগআউটের দায়িত্বে ছিলেন।

অন্যদিকে, ১৯৫৮ ও ১৯৬২ সালের বিশ্বকাপে ব্রাজিলের কোচ ছিলেন যথাক্রমে ভিসেন্তে ফিওলা এবং আইমোর মোরেরা। অর্থাৎ, দল হিসেবে ব্রাজিল পরপর বিশ্বকাপ জিতলেও তাদের ডাগআউটে ছিলেন ভিন্ন দুজন কোচ। এখন পর্যন্ত ২২টি বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কীর্তি আছে ২১ কোচের। তবে ৫ জন কোচ একবার করে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ হয়েছেন। রোববারের ফাইনালে আর্জেন্টিনা না জিতলে সেই এলিট লিস্টে ঢুকে যাবেন স্কালোনি। আর চ্যাম্পিয়ন হলে হবেন সবমিলিয়ে মাত্র দ্বিতীয় এবং আধুনিক ফুটবলের প্রথম কোচ হিসেবে দুটি বিশ্বকাপজয়ী কোচ।

একবার করে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এবং রানার্সআপ হওয়ার রেকর্ড রয়েছে– জার্মানির হেলমুট শ্যুন (১৯৭৪ চ্যাম্পিয়ন, ১৯৬৬ রানার্সআপ) ও ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার (১৯৯০ চ্যাম্পিয়ন, ১৯৮৬ রানার্সআপ), আর্জেন্টিনার কার্লোস সালভাদোর বিলার্দো (১৯৮৬ চ্যাম্পিয়ন, ১৯৯০ রানার্সআপ), ব্রাজিলের মারিও জাগালো (১৯৭০ চ্যাম্পিয়ন, ১৯৯৮ রানার্সআপ) এবং ফ্রান্সের দিদিয়ের দেশম (২০১৮ চ্যাম্পিয়ন, ২০২২ রানার্সআপ)।

বিশ্বকাপজয়ী ২১ কোচই নিজ নিজ দেশকে এই মেগা টুর্নামেন্টে পরিচালনা করেছেন। বিদেশি কোনো কোচ জেতার সুযোগ নেই চলতি আসরেও। স্কালোনি আর্জেন্টিনার এবং স্পেনের হয়ে স্বদেশি লুইস দে লা ফুয়েন্তে নামবেন ফাইনালের মঞ্চে। ব্রাজিলকে ১৯৯৪ বিশ্বকাপ জেতানো কার্লোস আলবার্তো পেরেইরা একমাত্র কোচ হিসেবে পাঁচটি ভিন্ন দেশকে ৬ বিশ্বকাপে পরিচালনা করেছেন।