০৯:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬
পুলিশের দাখিলকৃত অভিযোগপত্রের শুনানি ৭ জুন - NewsLiveBD.com
ফারইস্টের ৪০ লাখ গ্রাহকের নজর আদালতে

পুলিশের দাখিলকৃত অভিযোগপত্রের শুনানি ৭ জুন

সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল(বামে) ও সাবেক সিইও হেমায়েত (ডানে)

ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী লি. এর অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আদালতে ডিবি (ডিএমপি) পুলিশের দাখিল করা অভিযোগপত্রের শুনানি আগামী ৭জুন। এ দিনটির জন্য অপেক্ষা করছে কোম্পানির ৪০ লাখ ভুক্তভোগী গ্রাহক। তাদের নজর এখন আদালতের দিকে। প্রত্যাশা করছেন দ্রুত বিচারের মাধ্যমে আত্মসাৎকৃত অর্থ উদ্ধার ও আত্মসাতের সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি।

ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. জুয়েল রানার আদালতে এ বিষয়ে শুনানি হবে।

এর আগে চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহ মিনহাজ উদ্দিন আদালতে অভিযোগপত্রটি দাখিল করেন। এতে ফারইস্টের সাবেক চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম ও সাবেক সিইও মো. হেমায়েত উল্যাহসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।

এরও আগে ২০২২ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স এর আইন কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন বাদী হয়ে ১৪ জনকে আসামি করে শাহবাগ থানায় মামলাটি দায়ের করেন। পরবর্তীতে মামলাটি আদালতের নির্দেশে ডিবি (ডিএমপি) পুলিশ তদন্ত করে।

মামলার তদন্তে নতুন করে ১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ নিয়ে পুলিশ ২৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করে। এরা হলেন, ফারইস্ট লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লি. এর সাবেক চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম, সাবেক পরিচালক শাহরিয়ার খালেদ, রুবাইয়াত খালেদ ও খন্দকার মোহাম্মদ খালেদ,  সাবেক সিইও মো. হেমায়েত উল্যাহ, একরামুল আমিন ও মো. আলী হোসেন, সাবেক কোম্পানি সেক্রেটারি সৈয়দ আব্দুল আজিজ, সাবেক সিএফও মো. আলমগীর কবির মুন্সি, সাবেক এএমডি কামরুল হাসান খান, সাবেক ব্যাংকিং ও ইনভেস্টমেন্ট ইনচার্জ শেখ আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক অডিট ইনচার্জ মো. কামাল হোসেন হাওলাদার, সাবেক কর্মকর্তা মাকবুল এলাহী, নজরুল ইসলামের স্ত্রী ও সাবেক পরিচালক তাসলিমা ইসলাম, এম এ খালেকের স্ত্রী মোছাম্মৎ সাবিহা খালেক ও কন্যা সারওয়াৎ খালেদ সিমিন, নজরুল ইসলামের ম্যানেজার এ কে এম মনিরুল ইসলাম। এছাড়া আজাদ অটোমোবাইলস এর স্বত্ত্বাধিকারী মো. মিনহাজ উদ্দিন, মিথিলা টেক্সটাইল স্বত্ত্বাধিকারী মো. আজহার খান, মিথিলা প্রোপার্টিজর এর পরিচালক মো. সোহেল খান, সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের শ্যালক মো. সেলিম মাহমুদ, পিএফআই সিকিউরিটিজ এর সিইও মো. কাজী ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, পিএফআই প্রোপার্টিজ এর আসাদ খান ও নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত কর্মচারি মো. রহমত উল্যাহ দেওয়ান।

গ্রাহকদের দাবি অভিযুক্তদের এমন বিচার করা হোক, যেন ভবিষ্যতে কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে। এ ঘটনার বিচারের মাধ্যমে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন হবে এমনটিই আশা করছেন তারা।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, নজরুল ইসলাম বিমা কোম্পানিটির নেতৃত্বে থাকাকালীন সময়ে বিভিন্ন সময়ে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির অর্থ আত্মসাৎ করেছেন, যা প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ অডিট রিপোর্টে উঠে এসেছে। আসামিরা বিভিন্ন সময় জাল-জালিয়াতি ও প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড এর বিভিন্ন ব্যাংকে রক্ষিত এমটিডিআর এর বিপরীতে ৬৪৪ কোটি ২৮ লাখ টাকা ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে আত্মসাৎ করেন। পরবর্তীতে ঋণ পরিশোধ না করায় সংশ্লিষ্ট ব্যাংক মুনাফাসহ ফারইস্টের ৮৪২ কোটি টাকা সমন্বয় করে।

এছাড়া নজরুল হেমায়েতের নেতৃত্বে ৩৬ তোপখানা রোডে জমি ক্রয়ে সুকৌশলে ৪৫ কোটি এবং ৭২ কাকরাইলে জমি ক্রয়ে একইভাবে ১১৫ কোটি টাকা গ্রহণ করাসহ মিরপুরের গোড়ান চটবাড়ীতে জমি উন্নয়ের ব্যয় দেখিয়ে ৯২ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে মর্মেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

উল্লেখ, নজরুল-হেমায়েত চক্রের বিরুদ্ধে এই মামলা ছাড়াও দুদক আরও ৭টি মামলা দায়ের করেছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

রাশিয়ায় খলিলুর-ল্যাভরভের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক আজ, যেসব বিষয় আলোচনা হবে

ফারইস্টের ৪০ লাখ গ্রাহকের নজর আদালতে

পুলিশের দাখিলকৃত অভিযোগপত্রের শুনানি ৭ জুন

আপডেট: ০৪:৪৫:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬

ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী লি. এর অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আদালতে ডিবি (ডিএমপি) পুলিশের দাখিল করা অভিযোগপত্রের শুনানি আগামী ৭জুন। এ দিনটির জন্য অপেক্ষা করছে কোম্পানির ৪০ লাখ ভুক্তভোগী গ্রাহক। তাদের নজর এখন আদালতের দিকে। প্রত্যাশা করছেন দ্রুত বিচারের মাধ্যমে আত্মসাৎকৃত অর্থ উদ্ধার ও আত্মসাতের সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি।

ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. জুয়েল রানার আদালতে এ বিষয়ে শুনানি হবে।

এর আগে চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহ মিনহাজ উদ্দিন আদালতে অভিযোগপত্রটি দাখিল করেন। এতে ফারইস্টের সাবেক চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম ও সাবেক সিইও মো. হেমায়েত উল্যাহসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।

এরও আগে ২০২২ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স এর আইন কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন বাদী হয়ে ১৪ জনকে আসামি করে শাহবাগ থানায় মামলাটি দায়ের করেন। পরবর্তীতে মামলাটি আদালতের নির্দেশে ডিবি (ডিএমপি) পুলিশ তদন্ত করে।

মামলার তদন্তে নতুন করে ১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ নিয়ে পুলিশ ২৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করে। এরা হলেন, ফারইস্ট লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লি. এর সাবেক চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম, সাবেক পরিচালক শাহরিয়ার খালেদ, রুবাইয়াত খালেদ ও খন্দকার মোহাম্মদ খালেদ,  সাবেক সিইও মো. হেমায়েত উল্যাহ, একরামুল আমিন ও মো. আলী হোসেন, সাবেক কোম্পানি সেক্রেটারি সৈয়দ আব্দুল আজিজ, সাবেক সিএফও মো. আলমগীর কবির মুন্সি, সাবেক এএমডি কামরুল হাসান খান, সাবেক ব্যাংকিং ও ইনভেস্টমেন্ট ইনচার্জ শেখ আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক অডিট ইনচার্জ মো. কামাল হোসেন হাওলাদার, সাবেক কর্মকর্তা মাকবুল এলাহী, নজরুল ইসলামের স্ত্রী ও সাবেক পরিচালক তাসলিমা ইসলাম, এম এ খালেকের স্ত্রী মোছাম্মৎ সাবিহা খালেক ও কন্যা সারওয়াৎ খালেদ সিমিন, নজরুল ইসলামের ম্যানেজার এ কে এম মনিরুল ইসলাম। এছাড়া আজাদ অটোমোবাইলস এর স্বত্ত্বাধিকারী মো. মিনহাজ উদ্দিন, মিথিলা টেক্সটাইল স্বত্ত্বাধিকারী মো. আজহার খান, মিথিলা প্রোপার্টিজর এর পরিচালক মো. সোহেল খান, সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের শ্যালক মো. সেলিম মাহমুদ, পিএফআই সিকিউরিটিজ এর সিইও মো. কাজী ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, পিএফআই প্রোপার্টিজ এর আসাদ খান ও নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত কর্মচারি মো. রহমত উল্যাহ দেওয়ান।

গ্রাহকদের দাবি অভিযুক্তদের এমন বিচার করা হোক, যেন ভবিষ্যতে কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে। এ ঘটনার বিচারের মাধ্যমে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন হবে এমনটিই আশা করছেন তারা।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, নজরুল ইসলাম বিমা কোম্পানিটির নেতৃত্বে থাকাকালীন সময়ে বিভিন্ন সময়ে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির অর্থ আত্মসাৎ করেছেন, যা প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ অডিট রিপোর্টে উঠে এসেছে। আসামিরা বিভিন্ন সময় জাল-জালিয়াতি ও প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড এর বিভিন্ন ব্যাংকে রক্ষিত এমটিডিআর এর বিপরীতে ৬৪৪ কোটি ২৮ লাখ টাকা ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে আত্মসাৎ করেন। পরবর্তীতে ঋণ পরিশোধ না করায় সংশ্লিষ্ট ব্যাংক মুনাফাসহ ফারইস্টের ৮৪২ কোটি টাকা সমন্বয় করে।

এছাড়া নজরুল হেমায়েতের নেতৃত্বে ৩৬ তোপখানা রোডে জমি ক্রয়ে সুকৌশলে ৪৫ কোটি এবং ৭২ কাকরাইলে জমি ক্রয়ে একইভাবে ১১৫ কোটি টাকা গ্রহণ করাসহ মিরপুরের গোড়ান চটবাড়ীতে জমি উন্নয়ের ব্যয় দেখিয়ে ৯২ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে মর্মেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

উল্লেখ, নজরুল-হেমায়েত চক্রের বিরুদ্ধে এই মামলা ছাড়াও দুদক আরও ৭টি মামলা দায়ের করেছে।