ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেডের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের নির্দেশে রংপুর অঞ্চলে পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে—এমন গুরুতর অভিযোগ উঠেছে মো. ইসরাফিল আলম হেলালী নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, কোম্পানির স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি, গ্রাহকদের বিভ্রান্ত করা এবং পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে তার মাধ্যমে।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, মো. ইসরাফিল আলম হেলালী রংপুর জেলার পীরগাছা উপজেলার জগজীবন গ্রামের বাসিন্দা এবং রুহুল আমিনের ছেলে। তিনি স্থানীয়ভাবে আল হেলাল ক্যাডেট মাদরাসা নামে একটি অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হিসেবে পরিচিত। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করেছে, ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির সঙ্গে তার কোনো বৈধ বীমা পলিসি বা গ্রাহক সম্পর্ক নেই। তারপরও তিনি কোম্পানির অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সক্রিয় হয়ে নানা ধরনের অপতৎপরতায় জড়িত রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় কয়েকজন গ্রাহক ও কোম্পানি সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের অনুসারী হিসেবে হেলালী মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। তিনি সাধারণ গ্রাহকদের ভুল তথ্য দিয়ে উসকানি দিচ্ছেন, অসন্তোষ তৈরি করছেন এবং কোম্পানির বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণা চালাচ্ছেন। এর ফলে রংপুর অঞ্চলে কোম্পানির ব্যবসায়িক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।
ফারইস্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তারা গ্রাহকদের বীমা দাবি পরিশোধ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে রংপুর ডিভিশনে ৬ হাজার ৪৭৪জন গ্রাহকের ৮ কোটি ২১ লাখ ৩৭ হাজার ৫৫৮ টাকা বীমা দাবি এবং ২০২৬ সালের চলতি মাস পর্যন্ত ১৭৬ জন গ্রাহকের ৮৬ লাখ ৩৪ হাজার ৮৮৭ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে মোট ৯ কোটি ৭ লাখ ৭২ হাজার ৪৪৫ টাকা গ্রাহকদের মাঝে পরিশোধ করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের দাবি, এ ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। তবে নজরুল-হেমায়েতের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ মহল ইচ্ছাকৃতভাবে কার্যক্রম ব্যাহত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এতে গ্রাহকদের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি রয়েছে। স্বাভাবিক ব্যবসায়িক পরিবেশ ব্যাহত হওয়ায় দাবি নিষ্পত্তি ও সেবা কার্যক্রমেও সাময়িক প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মো. ইসরাফিল আলম হেলালীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংযোগ না পাওয়ায় কথা বলা সম্ভব হয়নি।
ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ভারপ্রাপ্ত মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুর রহিম ভূঁইয়া বলেন, “শত প্রতিকূলতার মধ্যেও রংপুর অঞ্চলে আমরা গ্রাহকদের বীমা দাবি পরিশোধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ সকল গ্রাহকের আমানত ফেরত দিতে বদ্ধপরিকর।”
বীমা বিশ্লেষকদের মতে, একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায় গুজব, বিভ্রান্তি ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার বড় ধরনের বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় প্রশাসন, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।
স্টাফ রিপোর্টার, নিউজ লাইভ 












