০২:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬
আমরা জুলাইয়ের চেতনাকে হৃদয়ে ধারণ করতে পারি : রাষ্ট্রপতি - NewsLiveBD.com

আমরা জুলাইয়ের চেতনাকে হৃদয়ে ধারণ করতে পারি : রাষ্ট্রপতি

ছবি সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, “ আমরা যেন জুলাইয়ের চেতনাকে আমাদের হৃদয়ে ধারণ করতে”। জুলাইকে যেন হারিয়ে না ফেলি। জুলাইয়ের চেতনাকে যেন আমাদের হৃদয়ে ধারণ করতে পারি। জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশাকে বাস্তবে রূপ দিতে পারি—এটাই হোক আমাদের আজকের অঙ্গীকার।”

বুধবার (৫ আগস্ট) বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয় আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ উপলক্ষ্যে রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী ও আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম, বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সচিব ব্যারিস্টার গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া।

রাষ্ট্রপতি তার বক্তব্যে বলেন, দীর্ঘ ষোল বছর ধরে অসংখ্য মানুষ অক্লান্ত সংগ্রাম করেছেন। রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন। সেই আত্মত্যাগের ধারাবাহিকতায় স্বৈরশাসনের অবসান ঘটেছে। এটি জাতির ইতিহাসের এক গৌরবময় অধ্যায়, যা বাংলাদেশের মানুষ যুগ যুগ ধরে গর্বের সঙ্গে স্মরণ করবে।

তিনি বলেন, আজ দুপুরে একটি অনুষ্ঠানে আমি এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেছি। এক মা তার অন্ধ ছেলেকে হাত ধরে মঞ্চে নিয়ে এসেছেন। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে সেই তরুণ তার দুই চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। মা সবার সামনে তাদের দুঃখ-কষ্ট, অভাব-অভিযোগ ও বেদনার কথা তুলে ধরেছেন। জুলাইয়ে যারা জীবন দিয়েছেন কিংবা অঙ্গহানির শিকার হয়েছেন, তাদের প্রতি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা জাতীয় সংসদ ও বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। এটি কোনো স্বল্পমেয়াদি দায়িত্ব নয়; বরং একটি দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় অঙ্গীকার।

ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় জীবনে ২৬ মার্চ ও ১৬ ডিসেম্বর যেমন গৌরব ও বিজয়ের দিন, তেমনি ৫ আগস্টও গৌরব ও বিজয়ের দিন হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছে। তিনি বলেন ২৬শে মার্চ ও ১৬ই ডিসেম্বর আমরা অর্জন করেছি বিদেশি হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে, আর ৫ আগস্ট অর্জিত হয়েছে দেশীয় ফ্যাসিবাদী শক্তিকে পরাভূত করার মাধ্যমে।

তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা পায়নি। ফলে স্বাধীনতার প্রকৃত সুফল থেকে জনগণ বহুবার বঞ্চিত হয়েছে। ভবিষ্যতে যেন জাতিকে আর সেই পথে হাঁটতে না হয়, সে জন্য ধৈর্য, সহনশীলতা এবং পরিশীলিত রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রকৃত সংস্কার মানুষের মনোজগতে হতে হবে। মনোজগতের পরিবর্তন না হলে শুধু আইন বা প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্র গঠন সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, রাষ্ট্র কাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কার ও মেরামতের সূচনা হতে হবে সংবিধান থেকে, যা রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন।

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান ছিল দেশের জনগণের ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের ফসল এবং এর মাধ্যমেই বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুজ্জীবনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন হলেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সেই স্বাধীনতার গণতান্ত্রিক ভিত্তিকে সুসংহত করার নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে।

চিফ হুইপ জুলাই বিপ্লবের সব শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, বিগত ‘মাফিয়া’ সরকার দেশের বিপুল অর্থ বিদেশে পাচার করেছে, মানুষের বাকস্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকার হরণ করেছে এবং ‘আয়নাঘর’, গুম, জেল-জুলুম ও নির্যাতনের মাধ্যমে ভয়ের রাজত্ব কায়েম করেছিল। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সশস্ত্র বাহিনীর দায়িত্বশীল ও কার্যকর ভূমিকার কথাও তিনি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সব হুইপ, সংসদ সদস্য, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

আমরা জুলাইয়ের চেতনাকে হৃদয়ে ধারণ করতে পারি : রাষ্ট্রপতি

আপডেট: ১০:৫৪:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, “ আমরা যেন জুলাইয়ের চেতনাকে আমাদের হৃদয়ে ধারণ করতে”। জুলাইকে যেন হারিয়ে না ফেলি। জুলাইয়ের চেতনাকে যেন আমাদের হৃদয়ে ধারণ করতে পারি। জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশাকে বাস্তবে রূপ দিতে পারি—এটাই হোক আমাদের আজকের অঙ্গীকার।”

বুধবার (৫ আগস্ট) বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয় আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ উপলক্ষ্যে রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী ও আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম, বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সচিব ব্যারিস্টার গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া।

রাষ্ট্রপতি তার বক্তব্যে বলেন, দীর্ঘ ষোল বছর ধরে অসংখ্য মানুষ অক্লান্ত সংগ্রাম করেছেন। রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন। সেই আত্মত্যাগের ধারাবাহিকতায় স্বৈরশাসনের অবসান ঘটেছে। এটি জাতির ইতিহাসের এক গৌরবময় অধ্যায়, যা বাংলাদেশের মানুষ যুগ যুগ ধরে গর্বের সঙ্গে স্মরণ করবে।

তিনি বলেন, আজ দুপুরে একটি অনুষ্ঠানে আমি এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেছি। এক মা তার অন্ধ ছেলেকে হাত ধরে মঞ্চে নিয়ে এসেছেন। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে সেই তরুণ তার দুই চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। মা সবার সামনে তাদের দুঃখ-কষ্ট, অভাব-অভিযোগ ও বেদনার কথা তুলে ধরেছেন। জুলাইয়ে যারা জীবন দিয়েছেন কিংবা অঙ্গহানির শিকার হয়েছেন, তাদের প্রতি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা জাতীয় সংসদ ও বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। এটি কোনো স্বল্পমেয়াদি দায়িত্ব নয়; বরং একটি দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় অঙ্গীকার।

ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় জীবনে ২৬ মার্চ ও ১৬ ডিসেম্বর যেমন গৌরব ও বিজয়ের দিন, তেমনি ৫ আগস্টও গৌরব ও বিজয়ের দিন হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছে। তিনি বলেন ২৬শে মার্চ ও ১৬ই ডিসেম্বর আমরা অর্জন করেছি বিদেশি হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে, আর ৫ আগস্ট অর্জিত হয়েছে দেশীয় ফ্যাসিবাদী শক্তিকে পরাভূত করার মাধ্যমে।

তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা পায়নি। ফলে স্বাধীনতার প্রকৃত সুফল থেকে জনগণ বহুবার বঞ্চিত হয়েছে। ভবিষ্যতে যেন জাতিকে আর সেই পথে হাঁটতে না হয়, সে জন্য ধৈর্য, সহনশীলতা এবং পরিশীলিত রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রকৃত সংস্কার মানুষের মনোজগতে হতে হবে। মনোজগতের পরিবর্তন না হলে শুধু আইন বা প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্র গঠন সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, রাষ্ট্র কাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কার ও মেরামতের সূচনা হতে হবে সংবিধান থেকে, যা রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন।

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান ছিল দেশের জনগণের ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের ফসল এবং এর মাধ্যমেই বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুজ্জীবনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন হলেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সেই স্বাধীনতার গণতান্ত্রিক ভিত্তিকে সুসংহত করার নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে।

চিফ হুইপ জুলাই বিপ্লবের সব শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, বিগত ‘মাফিয়া’ সরকার দেশের বিপুল অর্থ বিদেশে পাচার করেছে, মানুষের বাকস্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকার হরণ করেছে এবং ‘আয়নাঘর’, গুম, জেল-জুলুম ও নির্যাতনের মাধ্যমে ভয়ের রাজত্ব কায়েম করেছিল। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সশস্ত্র বাহিনীর দায়িত্বশীল ও কার্যকর ভূমিকার কথাও তিনি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সব হুইপ, সংসদ সদস্য, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।