১২:৫৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
চট্টগ্রামের বন্যা: প্রাণহানি ১৬, ক্ষতিগ্রস্ত ১৫ হাজারের বেশি বসতবাড়ি - NewsLiveBD.com

চট্টগ্রামের বন্যা: প্রাণহানি ১৬, ক্ষতিগ্রস্ত ১৫ হাজারের বেশি বসতবাড়ি

সাম্প্রতিক টানা বর্ষণ ও বন্যায় চট্টগ্রাম মহানগরসহ জেলার ১৫টি উপজেলা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে। এ দুর্যোগে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৫ হাজার ২২৮টি বসতবাড়ি, ৪০৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রায় দেড় হাজার কিলোমিটার সড়ক এবং ১৬৯টি সেতু-কালভার্ট। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে– সাতকানিয়া, বাঁশখালী, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ, বোয়ালখালী ও সন্দ্বীপ উপজেলা।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সবশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বন্যায় মহানগরসহ জেলার সব মিলিয়ে ১৫টি উপজেলা প্লাবিত হয়। এর মধ্যে ৯ হাজার ২০৮টি বসতবাড়ি আংশিক এবং ৬ হাজার ২০টি বসতবাড়ি সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ৪০৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ১ হাজার ৪৯২ কিলোমিটার সড়ক এবং ১৬৯টি সেতু ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যায় মোট ৭ লাখ ৮৫ হাজার, ৪০০ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলায় ৬৭০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছিল এবং ২৪৫টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়। পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া সবাই ইতোমধ্যে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে গেছেন।

চট্টগ্রাম জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান জানান, জেলায় ১ হাজার ২০০ মেট্রিক টন চাল, ৯৫ লাখ টাকা নগদ, শিশু খাদ্যের জন্য ৪ লাখ টাকা, গোখাদ্যের জন্য ১০ লাখ টাকা, ১ হাজার বান্ডিল ঢেউটিন এবং গৃহনির্মাণের জন্য ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৮০ মেট্রিক টন চাল, ৮৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, ৪৬ হাজার ১০০ প্যাকেট শুকনো খাবার, শিশু খাদ্যের জন্য ৪ লাখ টাকা এবং গোখাদ্যের জন্য ১০ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। বর্তমানে ১২০ মেট্রিক টন চাল, ১১ লাখ ২৫ হাজার টাকা, ১ হাজার ৪৫ বান্ডিল ঢেউটিন এবং গৃহনির্মাণের জন্য ৩০ লাখ টাকা মজুত রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে, ১৮ ও ১৯ জুলাই হালকা থেকে মাঝারি এবং ২০ থেকে ২২ জুলাই মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

চট্টগ্রামের বন্যা: প্রাণহানি ১৬, ক্ষতিগ্রস্ত ১৫ হাজারের বেশি বসতবাড়ি

আপডেট: ০৪:২০:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

সাম্প্রতিক টানা বর্ষণ ও বন্যায় চট্টগ্রাম মহানগরসহ জেলার ১৫টি উপজেলা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে। এ দুর্যোগে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৫ হাজার ২২৮টি বসতবাড়ি, ৪০৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রায় দেড় হাজার কিলোমিটার সড়ক এবং ১৬৯টি সেতু-কালভার্ট। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে– সাতকানিয়া, বাঁশখালী, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ, বোয়ালখালী ও সন্দ্বীপ উপজেলা।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সবশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বন্যায় মহানগরসহ জেলার সব মিলিয়ে ১৫টি উপজেলা প্লাবিত হয়। এর মধ্যে ৯ হাজার ২০৮টি বসতবাড়ি আংশিক এবং ৬ হাজার ২০টি বসতবাড়ি সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ৪০৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ১ হাজার ৪৯২ কিলোমিটার সড়ক এবং ১৬৯টি সেতু ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যায় মোট ৭ লাখ ৮৫ হাজার, ৪০০ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলায় ৬৭০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছিল এবং ২৪৫টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়। পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া সবাই ইতোমধ্যে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে গেছেন।

চট্টগ্রাম জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান জানান, জেলায় ১ হাজার ২০০ মেট্রিক টন চাল, ৯৫ লাখ টাকা নগদ, শিশু খাদ্যের জন্য ৪ লাখ টাকা, গোখাদ্যের জন্য ১০ লাখ টাকা, ১ হাজার বান্ডিল ঢেউটিন এবং গৃহনির্মাণের জন্য ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৮০ মেট্রিক টন চাল, ৮৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, ৪৬ হাজার ১০০ প্যাকেট শুকনো খাবার, শিশু খাদ্যের জন্য ৪ লাখ টাকা এবং গোখাদ্যের জন্য ১০ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। বর্তমানে ১২০ মেট্রিক টন চাল, ১১ লাখ ২৫ হাজার টাকা, ১ হাজার ৪৫ বান্ডিল ঢেউটিন এবং গৃহনির্মাণের জন্য ৩০ লাখ টাকা মজুত রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে, ১৮ ও ১৯ জুলাই হালকা থেকে মাঝারি এবং ২০ থেকে ২২ জুলাই মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছে।