০৪:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
ফারইস্টের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুলের জামিন আবেদন নামঞ্জুর - NewsLiveBD.com

ফারইস্টের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুলের জামিন আবেদন নামঞ্জুর

দুদকের দায়ের করা মামলায় ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেড এর সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছে আদালত।

আজ (৬ এপ্রিল) ১২টায় ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে জামিন আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করেন।

সূত্রে জানা যায়, ৩৬ তোপখানা রোড ঢাকায় ৩৩.৫৬ শতাংশ জমি বিক্রিতে ৪৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে নতুন এই মামলাটি করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকের উপপরিচালক সৈয়দ আতাউল কবির গত ৩১ জুলাই ঢাকার সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০১৩ সালের ৩ মার্চ অনুষ্ঠিত ফারইস্ট ইসলামী লাইফের ১৭৫তম পর্ষদ সভায়, ৩৬ তোপখানা রোডের ৩৩.৫৬ শতাংশ জমি ও একটি ভবন ২২৯ কোটি ১৩ লাখ ৯৫ হাজার টাকায় কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

দুদক সূত্রে জানা যায়, জমি ও ভবনের মূল্য অযাচিতভাবে অনেক বেশি ধরা হয়, যা আত্মসাতের উদ্দেশ্যেই করা হয়েছে।

যেভাবে পরিশোধ করা হয় জমির মূল্য:

ফারইস্ট ইসলামী লাইফের কাছে জমি বিক্রি করেন আজাহার খান এবং সোহেল খান। তবে জমির মূল্য বাবদ ১৮১ কোটি ৫০ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয় আজাহার খানের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান মিথিলা টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রিজের নামে পরিচালিত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে। যার মধ্যে জমি ক্রয়ের অগ্রিম বাবদ ৪ মার্চ ২০১৪ সালে পরিশোধ করা হয় ৭৫ কোটি টাকা। জমি রেজিস্ট্রির দিন (১৬ মার্চ ২০১৪) পরিশোধ করা হয় ১০৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এর মধ্যে মিথিলা টেক্সটাইলের ইউনিয়ন ব্যাংক গুলশান শাখায় জমা হয় ১৬৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা। আর এনসিসি ব্যাংক উত্তরা শাখার অ্যাকাউন্টে জমা হয় ১৩ কোটি টাকা।

এছাড়াও ফারইস্ট ইসলামী লাইফের নামে পরিচালিত দুটি ব্যাংক থেকে চেক দিয়ে নগদ তোলা হয় মোট ২১ কোটি ৬১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এর মধ্যে ইসলামী ব্যাংক কারওয়ানবাজার শাখা থেকে তোলা হয় ৯ কোটি ৭৫ লাখ টাকা এবং শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক কারওয়ানবাজার থেকে তোলা হয় ১১ কোটি ৮৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এছাড়া সোনালী ব্যাংক বরাবর একটি পে-অর্ডার দিয়ে ২০ কোটি টাকা তোলা হয় ফারইস্ট ইসলামী লাইফের ইউনিয়ন ব্যাংকের গুলশান শাখা থেকে। এই টাকা তোলা হয় জমি রেজিস্ট্রি, স্ট্যাম্প ও অন্যান্য খরচ বাবদ।

জমি ক্রয়-বিক্রয়ে, নজরুল-খালেক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা কে কত নেন:

ফারইস্ট ইসলামী লাইফের জমি ক্রয়ের ক্ষেত্রে কোম্পানিটির সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী তাসলিমা ইসলাম এবং সাবেক পরিচালক এম এ খালেক ও তার স্ত্রী সাবিহা খালেক ও মেয়ে সারওয়াৎ খালেদ সিমিন মোট ৪৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন। এর মধ্যে নজরুল ইসলাম আত্মসাৎ করেন ৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং তার স্ত্রী তাসলীমা ইসলাম আত্মসাৎ করেন ১০ কোটি টাকা। আর এম এ খালেক নেন ১৫ কোটি টাকা, তার স্ত্রী সাবিহা খালেক ২ কোটি ৬২ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং কন্যা সারওয়াৎ খালেদ সিমিন নেন ৭ কোটি ৮৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

নিউজলাইভ/৬ এপ্রিল/ পিএস

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

ফারইস্টের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুলের জামিন আবেদন নামঞ্জুর

আপডেট: ০৬:২০:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬

দুদকের দায়ের করা মামলায় ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেড এর সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছে আদালত।

আজ (৬ এপ্রিল) ১২টায় ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে জামিন আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করেন।

সূত্রে জানা যায়, ৩৬ তোপখানা রোড ঢাকায় ৩৩.৫৬ শতাংশ জমি বিক্রিতে ৪৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে নতুন এই মামলাটি করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকের উপপরিচালক সৈয়দ আতাউল কবির গত ৩১ জুলাই ঢাকার সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০১৩ সালের ৩ মার্চ অনুষ্ঠিত ফারইস্ট ইসলামী লাইফের ১৭৫তম পর্ষদ সভায়, ৩৬ তোপখানা রোডের ৩৩.৫৬ শতাংশ জমি ও একটি ভবন ২২৯ কোটি ১৩ লাখ ৯৫ হাজার টাকায় কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

দুদক সূত্রে জানা যায়, জমি ও ভবনের মূল্য অযাচিতভাবে অনেক বেশি ধরা হয়, যা আত্মসাতের উদ্দেশ্যেই করা হয়েছে।

যেভাবে পরিশোধ করা হয় জমির মূল্য:

ফারইস্ট ইসলামী লাইফের কাছে জমি বিক্রি করেন আজাহার খান এবং সোহেল খান। তবে জমির মূল্য বাবদ ১৮১ কোটি ৫০ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয় আজাহার খানের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান মিথিলা টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রিজের নামে পরিচালিত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে। যার মধ্যে জমি ক্রয়ের অগ্রিম বাবদ ৪ মার্চ ২০১৪ সালে পরিশোধ করা হয় ৭৫ কোটি টাকা। জমি রেজিস্ট্রির দিন (১৬ মার্চ ২০১৪) পরিশোধ করা হয় ১০৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এর মধ্যে মিথিলা টেক্সটাইলের ইউনিয়ন ব্যাংক গুলশান শাখায় জমা হয় ১৬৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা। আর এনসিসি ব্যাংক উত্তরা শাখার অ্যাকাউন্টে জমা হয় ১৩ কোটি টাকা।

এছাড়াও ফারইস্ট ইসলামী লাইফের নামে পরিচালিত দুটি ব্যাংক থেকে চেক দিয়ে নগদ তোলা হয় মোট ২১ কোটি ৬১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এর মধ্যে ইসলামী ব্যাংক কারওয়ানবাজার শাখা থেকে তোলা হয় ৯ কোটি ৭৫ লাখ টাকা এবং শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক কারওয়ানবাজার থেকে তোলা হয় ১১ কোটি ৮৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এছাড়া সোনালী ব্যাংক বরাবর একটি পে-অর্ডার দিয়ে ২০ কোটি টাকা তোলা হয় ফারইস্ট ইসলামী লাইফের ইউনিয়ন ব্যাংকের গুলশান শাখা থেকে। এই টাকা তোলা হয় জমি রেজিস্ট্রি, স্ট্যাম্প ও অন্যান্য খরচ বাবদ।

জমি ক্রয়-বিক্রয়ে, নজরুল-খালেক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা কে কত নেন:

ফারইস্ট ইসলামী লাইফের জমি ক্রয়ের ক্ষেত্রে কোম্পানিটির সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী তাসলিমা ইসলাম এবং সাবেক পরিচালক এম এ খালেক ও তার স্ত্রী সাবিহা খালেক ও মেয়ে সারওয়াৎ খালেদ সিমিন মোট ৪৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন। এর মধ্যে নজরুল ইসলাম আত্মসাৎ করেন ৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং তার স্ত্রী তাসলীমা ইসলাম আত্মসাৎ করেন ১০ কোটি টাকা। আর এম এ খালেক নেন ১৫ কোটি টাকা, তার স্ত্রী সাবিহা খালেক ২ কোটি ৬২ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং কন্যা সারওয়াৎ খালেদ সিমিন নেন ৭ কোটি ৮৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

নিউজলাইভ/৬ এপ্রিল/ পিএস