০৮:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
লঞ্চের ধাক্কায় ট্রলার ডুবি, দুইজনের মরদেহ উদ্ধার - NewsLiveBD.com

লঞ্চের ধাক্কায় ট্রলার ডুবি, দুইজনের মরদেহ উদ্ধার

ছবি সংগৃহীত

পটুয়াখারীর বাউফলে আওলাদ-৭ নামে একটি লঞ্চের ধাক্তায় তরমুজ বোঝাই ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় দুইজন নিখোঁজ হন। পরে ফায়ার সার্ভিসের ডুবরিদর তাদের মরদেহ উদ্ধার করেছে।

আজ (২৫ মার্চ) বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বাউফল উপজেলার বগা ইউনিয়নের বামনিকাঠী লঞ্চঘাট-সংলগ্ন লোহালিয়া নদীতে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। এর আগে, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন—রাঙ্গাবালী উপজেলার চরবেস্টিন গ্রামের মো. আলী ফকিরের ছেলে মো. নাসির ফকির (৩৬) এবং নলুয়া গ্রামের আজাদ হাওলাদারের ছেলে রেজাউল হাওলাদার (৩৫)। তারা দুজনই তরমুজ পরিবহনের কাজে শ্রমিক হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী থেকে তরমুজবোঝাই একটি ট্রলার ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেয়। ভোর রাতে ট্রলারটি বামনিকাঠী এলাকায় পৌঁছালে ঢাকা থেকে পটুয়াখালীগামী এমভি আওলাদ-৭ নামের একটি ডাবল ডেকার লঞ্চ ট্রলারটিকে ধাক্কা দিলে ট্রলারটি নদীতে ডুবে যায়। এ সময় ট্রলারের ভেতরের ছোট কেবিনে ঘুমিয়ে ছিলেন রেজাউল ও নাসির। আকস্মিক দুর্ঘটনায় তারা কেবিন থেকে বের হতে না পেরে পানিতে ডুবে মারা যান। তবে ট্রলারে থাকা অন্য যাত্রীরা সাঁতরে তীরে উঠে প্রাণে বাঁচেন।

জানা গেছে, ট্রলারটিতে মোট ছয়জন আরোহী ছিলেন। তাদের মধ্যে তিনজন কেবিনে অবস্থান করছিলেন। দুর্ঘটনার সময় কেবিনে থাকা তিনজনের মধ্যে একজন বের হতে সক্ষম হলেও বাকি দুইজন বের হতে না পেরে ভেতরেই আটকা পড়েন। পরে তারা পানির নিচে নিখোঁজ হন এবং ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের অভিযানে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভোররাতে লোহালিয়া নদীতে ঘন কুয়াশা ছিল। এ কারণে ট্রলারটি লঞ্চের সুকানির চোখে না পড়ায় দুর্ঘটনাটি ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ফায়ার সার্ভিসের পটুয়াখালীর টিম লিডার মুজিবুর রহমান বলেন, কয়েক ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে লোহালিয়া নদী থেকে নিখোঁজ দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

বাউফল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আতিকুল ইসলাম বলেন, রাতের বেলায় আওলাদ-৭ লঞ্চ ও তরমুজের ট্রলারের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এরপর থেকে আমাদের পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

প্রকল্পে ব্যয় বৃদ্ধির প্রবণতা ঠেকাতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে

লঞ্চের ধাক্কায় ট্রলার ডুবি, দুইজনের মরদেহ উদ্ধার

আপডেট: ০৫:৫৩:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬

পটুয়াখারীর বাউফলে আওলাদ-৭ নামে একটি লঞ্চের ধাক্তায় তরমুজ বোঝাই ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় দুইজন নিখোঁজ হন। পরে ফায়ার সার্ভিসের ডুবরিদর তাদের মরদেহ উদ্ধার করেছে।

আজ (২৫ মার্চ) বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বাউফল উপজেলার বগা ইউনিয়নের বামনিকাঠী লঞ্চঘাট-সংলগ্ন লোহালিয়া নদীতে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। এর আগে, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন—রাঙ্গাবালী উপজেলার চরবেস্টিন গ্রামের মো. আলী ফকিরের ছেলে মো. নাসির ফকির (৩৬) এবং নলুয়া গ্রামের আজাদ হাওলাদারের ছেলে রেজাউল হাওলাদার (৩৫)। তারা দুজনই তরমুজ পরিবহনের কাজে শ্রমিক হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী থেকে তরমুজবোঝাই একটি ট্রলার ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেয়। ভোর রাতে ট্রলারটি বামনিকাঠী এলাকায় পৌঁছালে ঢাকা থেকে পটুয়াখালীগামী এমভি আওলাদ-৭ নামের একটি ডাবল ডেকার লঞ্চ ট্রলারটিকে ধাক্কা দিলে ট্রলারটি নদীতে ডুবে যায়। এ সময় ট্রলারের ভেতরের ছোট কেবিনে ঘুমিয়ে ছিলেন রেজাউল ও নাসির। আকস্মিক দুর্ঘটনায় তারা কেবিন থেকে বের হতে না পেরে পানিতে ডুবে মারা যান। তবে ট্রলারে থাকা অন্য যাত্রীরা সাঁতরে তীরে উঠে প্রাণে বাঁচেন।

জানা গেছে, ট্রলারটিতে মোট ছয়জন আরোহী ছিলেন। তাদের মধ্যে তিনজন কেবিনে অবস্থান করছিলেন। দুর্ঘটনার সময় কেবিনে থাকা তিনজনের মধ্যে একজন বের হতে সক্ষম হলেও বাকি দুইজন বের হতে না পেরে ভেতরেই আটকা পড়েন। পরে তারা পানির নিচে নিখোঁজ হন এবং ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের অভিযানে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভোররাতে লোহালিয়া নদীতে ঘন কুয়াশা ছিল। এ কারণে ট্রলারটি লঞ্চের সুকানির চোখে না পড়ায় দুর্ঘটনাটি ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ফায়ার সার্ভিসের পটুয়াখালীর টিম লিডার মুজিবুর রহমান বলেন, কয়েক ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে লোহালিয়া নদী থেকে নিখোঁজ দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

বাউফল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আতিকুল ইসলাম বলেন, রাতের বেলায় আওলাদ-৭ লঞ্চ ও তরমুজের ট্রলারের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এরপর থেকে আমাদের পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।