বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষকে (আইডিআরএ) শতভাগ দুর্নীতিগ্রস্থ প্রতিষ্ঠান বলে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন আকিজ তাকাফুল লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সিইও মো. আলমগীর চৌধুরী।
একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে তিনি এ মন্তব্য করেন। তাঁর মন্তব্যটি প্রকাশ হওয়ার পর বীমা খাতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
মো. আলমগীর চৌধুরী লিখেন, “বিমা সেক্টরে দুর্নীতিবাজ, গরিবের টাকা আত্মসাৎকারী, লবিংবাজ ও তেলবাজ যারা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের নজরে তাদের মত যোগ্য ব্যক্তি আর হয় না। ইদরা পুরোটা দুর্নীতিগ্রস্থ সেক্টর। দু-একজন ছাড়া বাকি সবাই দুর্নীতিযুক্ত। ভালো, কর্মঠ, নীতিবানদের কোনো মূল্য নেই এই সেক্টরে। সত্যি কথা বলার সাহস নেই অনেকের। ইদরা একটা শতভাগ দূর্নীতিগ্রস্থ প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি কর্মী কর্মকর্তা দূর্নীতিমূক্ত না হলে এই সেক্টর কোনোদিন ঠিক হবেনা। আর বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষও কোনো দিন দূর্নীতিমুক্ত হবে না, সেক্টরও কোনো দিন ঠিক হবে না।”
তিনি আরো উল্লেখ করেন, “মার্কেটিং এর কর্মী কর্মকর্তারা গ্রাহকদের টাকা এনে কোম্পানির একাউন্ট-এ দিবে সেই টাকায় মালিক পক্ষ আর সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট নিজের আখের গোছাতে ব্যস্ত থাকবে। মেয়াদ শেষে গরীব গ্রাহকরা টাকা পাবে না, মাঠকর্মী কর্মকর্তারা মাইর খাবে। এই পথ থেকে বিমা সেক্টর রেহাই পাবে না। গ্রাহকদের টাকায় কোটি টাকা খরচ করে সেমিনারের নামে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ায় সিনিয়র কর্মকর্তারা ও মালিক পক্ষ। কিন্তু গ্রাহকদের হাজার টাকার চেক বছরের পর বছর দিচ্ছে না। এই সবকিছু বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) জানে, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নিবে না- কারণ বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) নিজেদের হিসাব ঠিকভাবে সময় মতো বুঝে পায়। সরকারেরও কোনো নজরদারি নেই। আল্লাহ হেদায়েত দান করুন।”
এ বিষয়ে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান নাদিয়া নিভিনের ব্যক্তিগত সহকারীর মাধ্যমে চেয়াম্যানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী ফোন রিসিভ না করায় কোনো প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি। ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও কোনো উত্তর দেননি তিনি।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বীমা সেক্টরে কাজ করা বেশ কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তা বলেন, “কোনো বীমা কোম্পানি সমস্যায় পড়লে সেটিকে তুলে ধরার কোনো ক্ষমতা এ সংস্থার নেই। সংস্থাটি মূলত “নখদন্তহীন বাঘ।” এটি বীমা কোম্পানিগুলোকে নিয়ন্ত্রণের নামে বছরের পর বছর শোষণ করে আসছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক, নিউজ লাইভ 












