ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেড এর আত্মসাৎ হওয়া টাকা উদ্ধারে জড়িতদের সম্পত্তি জব্দ করা যেতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের প্রফেসর রফিকুল ইসলাম। নিউজ লাইভকে দেয়া এক বিশেষজ্ঞ মতামতে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুরে এ প্রতিবেদক তাঁর সঙ্গে কথা বলেন।
ফারইস্টের অর্থ উদ্ধার হলে কী হবে উদ্ধার না হলে কী হবে এজন্য করনীয় কী এবং সরকারের পক্ষ থেকে কিছু করনীয় আছে কি না জানতে চাইলে রফিকুল ইসলাম বলেন, “টাকা উদ্ধার হলে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন গ্রাহকরা। তারা তাদের কষ্টার্জিত আমানত ফেরত পাবেন। একই সঙ্গে ফারইস্ট তার হারানো ইমেজ ফিরে পাবে। গ্রাহকদের মাঝেও আস্থা তৈরি হবে।”
টাকা উদ্ধার না হলে কী হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “টাকা উদ্ধার না হলে লাখ লাখ গ্রাহক তাদের আমানত ফেরত পাওয়া থেকে বঞ্চিত হবে। কোম্পানিটিও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সর্বোপরি ফারইস্টের এই ঘটনা দেশের বীমা খাতে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।”
টাকা উদ্ধারে করণীয় কি জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এ শিক্ষক বলেন, “অর্থ আত্মসাৎকারীদের সম্পত্তি জব্দ করে এ টাকা উদ্ধার করা যেতে পারে।”
উল্লেখ্য, ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেড এর ৮১৬ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে ২০২২ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর কোম্পানির আইন কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে ডিএমপির ডিবি মামলাটি তদন্ত করে। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি তদন্ত কর্মকর্তা ২৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তা তার মতামতে উল্লেখ করে বলেন, “ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেড বাংলাদেশের শরিয়াহভিত্তিক জীবনবীমা খাতে একটি স্বনামধন্য ও শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান। কোম্পানিটি ২০০০ সালের ২৯ মে কোম্পানি আইন, ১৯৯৪ এবং বীমা আইন, ১৯৯৩ এর বিধান অনুযায়ী একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে নিবন্ধিত হয় এবং পরবর্তীতে ২০০৫ সালে ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)-এর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি দেশের প্রায় চল্লিশ লাখ বীমা গ্রাহকের ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে আসছে এবং হাজার হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। কোম্পানিটি সারাদেশে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাধ্যমে বিভিন্ন জীবনবীমা পলিসি বিক্রয় করে এবং সাধারণ জনগণের কষ্টার্জিত অর্থ প্রিমিয়াম হিসেবে সংগ্রহ করে। সংগৃহীত প্রিমিয়ামের অর্থ থেকে মাঠকর্মীদের কমিশন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, বোনাস ও অফিস খরচসহ বিভিন্ন ব্যয় পরিশোধ করার পর অবশিষ্ট টাকা পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিভিন্ন ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য বৈধ খাতে বিনিয়োগ করে থাকে। উক্ত বিনিয়োগের অর্জিত মুনাফা থেকে বীমাগ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ প্রদান করা হয়। কিন্তু আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন ও সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে পর্ষদ সভার মূল কার্যবিবরণীর বাহিরে ভুয়া (Fake) এক্সট্রাক্ট, চিঠি ও ভুয়া ভাউচার প্রস্তুত করে, জাল-জালিয়াতি, বিশ্বাসভঙ্গ ও তথ্য গোপন করে অভ্যন্তরীণ অডিট ও ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট সেকশনের ইচ্ছাকৃত গাফিলতির মাধ্যমে কোম্পানির বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেন। তারা বিভিন্ন ব্যাংকে কোম্পানির বিনিয়োগকৃত এমটিডিআর সমূহের ৬৪৪ কোটি ২৮ লাখ টাকা তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানসমূহ- যথাক্রমে মিথিলা টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রি, কামাল উদ্দিন, মিথিলা প্রোপার্টিজ লিমিটেড, পিএফআই প্রোপার্টিজ লিমিটেড, প্রাইমএশিয়া ইউনিভার্সিটি, পিএফআই সিকিউরিটিজ লিমিটেড, প্রাইমএশিয়া ফাউন্ডেশন, আজাদ অটোমোবাইলস, মেসার্স মোল্লা এন্টারপ্রাইজ, কে. এম. খালেদ, এম. এ. খালেক, ম্যাকসনস (বিডি) লিমিটেড, প্রাইম ইসলামী সিকিউরিটিজ লিমিটেড, প্রাইম ফাইন্যানশিয়াল সিকিউরিটিজ লিমিটেড, ম্যাকসনস অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেড ও মিজানুর রহমান মোস্তফা এবং প্রাইম প্রোপার্টি হোল্ডিংস লিমিটেড-এর অনুকূলে ঋণ, ডিডি ও পে-অর্ডারের মাধ্যমে আত্মসাৎ করেন। যে কারণে কোম্পানি মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। উক্ত জাল-জালিয়াতি, প্রতারণা, ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিশ্বাসভঙ্গমূলক কর্মকাণ্ডের ফলে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেড বর্তমানে চরম আর্থিক সংকটে নিপতিত হয়েছে। ফলে এবং এর ফলস্বরূপ লক্ষ লক্ষ বীমাগ্রহক ও কর্মকর্তা- কর্মচারীদের বৈধ পাওনাদি যথাসময়ে পরিশোধ করতে ব্যর্থ হচ্ছে, যা জনস্বার্থ ও রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করেছে মর্মে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়।
নিউজ লাইভ/১এপ্রিল/পিএসর
প্রশান্ত সুভাষ চন্দ, নিউজ লাইভ 












