০১:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে সম্পূর্ণভাবে দুর্নীতিমুক্ত রাখার ঘোষণা শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর - NewsLiveBD.com

শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে সম্পূর্ণভাবে দুর্নীতিমুক্ত রাখার ঘোষণা শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর

ছবি সংগৃহীত

শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে সম্পূর্ণভাবে দুর্নীতিমুক্ত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। একই  সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাবও বরদাস্ত করা হবে না বলে জানান তিনি।

রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্য জোটের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষকরা যে লিখিত দাবি পেশ করেছেন, সেগুলো গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন দাবির মধ্যে যেসব ‘স্ট্যান্ডিং ইস্যু’ রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমরা হঠাৎ করে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চাই না। আপনাদের সঙ্গে আলোচনা করেই দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে যেতে চাই, যাতে পাঁচ বা সাত বছর পর একই দাবিতে আবার আন্দোলনে নামতে না হয়।

শিক্ষকদের মর্যাদা প্রসঙ্গে ববি হাজ্জাজ বলেন, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকরা যে দায়িত্ব পালন করেন, তার যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হবে। আমরা শিক্ষক সমাজের মর্যাদা ও প্রত্যাশা সম্পর্কে তারা অবগত।

কারিকুলাম সংস্কারের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, ইংরেজি মাধ্যম, বাংলা মাধ্যম, মাদ্রাসা ও আলিয়া—সব ধারাকে একটি সাধারণ কাঠামোর (জেনারেল আমব্রেলা) আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে তা হবে ধীরে ও পর্যালোচনার মাধ্যমে।

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি শুধু শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে সম্ভব নয়। অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে সমন্বয় প্রয়োজন। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছে এবং আর্থিক হিসাব প্রস্তুতের কাজ চলছে।

অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ট্রাস্টের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, এসব দাবি আবেগের নয়, যৌক্তিকতার জায়গা থেকেই এসেছে। সমাধানের প্রস্তাবগুলো আরও সুস্পষ্টভাবে উপস্থাপন করা হলে তা বাস্তবায়নের পথ সহজ হবে।

এনটিআরসিসহ শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ কাঠামো নিয়ে সচিবদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি। মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা—এই তিন বিভাগের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে কাঠামোগত সাদৃশ্য আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুটি বিষয়ে আমরা একদম আপসহীন—দুর্নীতি ও দলীয়করণ। শিক্ষা খাতে কোনো রাজনৈতিক প্রভাব চলবে না। ব্যক্তিগত জীবনে কে কী রাজনীতি করেন, সেটি বিষয় নয়; কিন্তু শিক্ষা ব্যবস্থার ভেতরে কোনো পলিটিসাইজেশন আমরা হতে দেব না।

তিনি আরও জানান, এক সপ্তাহের মধ্যে আলোচিত এজেন্ডাগুলোর অগ্রগতি লিখিত আকারে প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হবে। এরপর বিষয়গুলো শিক্ষক সমাজের কাছেও স্পষ্ট করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

এসময় সভায় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান ও কুমিল্লা-২ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ভূঁইয়া।

নিউজ লাইভ/২২ফেব্রুয়ারি/পিএস

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

প্রকল্পে ব্যয় বৃদ্ধির প্রবণতা ঠেকাতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে

শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে সম্পূর্ণভাবে দুর্নীতিমুক্ত রাখার ঘোষণা শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর

আপডেট: ০২:২১:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে সম্পূর্ণভাবে দুর্নীতিমুক্ত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। একই  সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাবও বরদাস্ত করা হবে না বলে জানান তিনি।

রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্য জোটের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষকরা যে লিখিত দাবি পেশ করেছেন, সেগুলো গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন দাবির মধ্যে যেসব ‘স্ট্যান্ডিং ইস্যু’ রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমরা হঠাৎ করে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চাই না। আপনাদের সঙ্গে আলোচনা করেই দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে যেতে চাই, যাতে পাঁচ বা সাত বছর পর একই দাবিতে আবার আন্দোলনে নামতে না হয়।

শিক্ষকদের মর্যাদা প্রসঙ্গে ববি হাজ্জাজ বলেন, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকরা যে দায়িত্ব পালন করেন, তার যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হবে। আমরা শিক্ষক সমাজের মর্যাদা ও প্রত্যাশা সম্পর্কে তারা অবগত।

কারিকুলাম সংস্কারের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, ইংরেজি মাধ্যম, বাংলা মাধ্যম, মাদ্রাসা ও আলিয়া—সব ধারাকে একটি সাধারণ কাঠামোর (জেনারেল আমব্রেলা) আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে তা হবে ধীরে ও পর্যালোচনার মাধ্যমে।

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি শুধু শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে সম্ভব নয়। অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে সমন্বয় প্রয়োজন। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছে এবং আর্থিক হিসাব প্রস্তুতের কাজ চলছে।

অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ট্রাস্টের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, এসব দাবি আবেগের নয়, যৌক্তিকতার জায়গা থেকেই এসেছে। সমাধানের প্রস্তাবগুলো আরও সুস্পষ্টভাবে উপস্থাপন করা হলে তা বাস্তবায়নের পথ সহজ হবে।

এনটিআরসিসহ শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ কাঠামো নিয়ে সচিবদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি। মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা—এই তিন বিভাগের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে কাঠামোগত সাদৃশ্য আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুটি বিষয়ে আমরা একদম আপসহীন—দুর্নীতি ও দলীয়করণ। শিক্ষা খাতে কোনো রাজনৈতিক প্রভাব চলবে না। ব্যক্তিগত জীবনে কে কী রাজনীতি করেন, সেটি বিষয় নয়; কিন্তু শিক্ষা ব্যবস্থার ভেতরে কোনো পলিটিসাইজেশন আমরা হতে দেব না।

তিনি আরও জানান, এক সপ্তাহের মধ্যে আলোচিত এজেন্ডাগুলোর অগ্রগতি লিখিত আকারে প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হবে। এরপর বিষয়গুলো শিক্ষক সমাজের কাছেও স্পষ্ট করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

এসময় সভায় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান ও কুমিল্লা-২ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ভূঁইয়া।

নিউজ লাইভ/২২ফেব্রুয়ারি/পিএস