হাইওয়ে পুলিশের নজরদারিতে আসছে বড় পরিবর্তন। দেশের হাইওয়েতে বসানো হচ্ছে ১৪শ স্মার্ট ক্যামেরা। গতি সীমা ভঙ্গ ও সিগন্যাল অমান্য থেকে শুরু করে যেকোনো অপরাধের জরিমানা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাঠানো হবে গাড়ির মালিকের মোবাইল ফোনে।
ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রুটে বসানো হচ্ছে এসব আধুনিক ক্যামেরা, যা রিয়েল–টাইমে ধরা ফেলবে প্রতিটি সড়ক অপরাধ।
রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সোমবার জাতীয় হার্ট ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘টেকসই উন্নয়নে সড়ক নিরাপত্তা আইন’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় এসব তথ্য জানান হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি হাবিবুর রহমান।
ডিআইজি বলেন, “আর হাতে ধরে পুলিশের ফাইন দেওয়ার দিন নেই। কয়েক মাসের মধ্যেই ওভারস্পিড বা যেকোনো আইন লঙ্ঘনের জরিমানা গাড়ির মালিকের মোবাইলে পৌঁছে যাবে। বার্তায় উল্লেখ থাকবে— কোন স্থানে, কোন অপরাধে, কত টাকা জরিমানা হয়েছে।”
জরিমানার টাকা অনলাইনে নির্দিষ্ট ব্যাংকের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে। আদালতে ব্যবহারের জন্য প্রতিটি অপরাধের টাইম-স্ট্যাম্পড ভিডিও প্রমাণ ডিজিটালি সংরক্ষণ করা হবে।
হাবিবুর রহমান জানান, “ঢাকা–চট্টগ্রাম বৃত্তের বাইরে পর্যন্ত বিস্তৃত একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল মনিটরিং নেটওয়ার্ক ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ১৪শ ক্যামেরা সক্রিয় আছে, যা হাইওয়ের প্রায় প্রতি ইঞ্চি কভার করছে।”
নতুন ক্যামেরাগুলো শুধু গতি শনাক্ত করবে না—
মুভমেন্ট অ্যানালাইসিস, ক্রাউড ডিটেকশন ও সন্দেহজনক আচরণ বিশ্লেষণ এ ধরনের প্রযুক্তিও এসব ক্যামেরায় যুক্ত আছে। ফলে হাইওয়ে নিরাপত্তায় যুক্ত হবে আরও শক্তিশালী নজরদারি ব্যবস্থা।
ডিআইজি জানান, “আদালতে এখন থেকে মুখের কথার চেয়ে ডিজিটাল প্রমাণের শক্তি বেশি হবে। ভিডিও ফুটেজ আদালতে স্বীকৃত এভিডেন্স হিসেবে ব্যবহার করা হবে। এতে মামলা পরিচালনা আরও সহজ হবে।”
হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, আগামী ৩ থেকে ৪ মাসের মধ্যেই পুরো ডিজিটাল জরিমানা ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে। সড়ক নিরাপত্তায় এটি দেশে নতুন মানদণ্ড তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নিউজ লাইভ/০২ডিসেম্বর/পিএস
প্রশান্ত সুভাষ চন্দ 












