০৮:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬
সিলেট ও সুনামগঞ্জে আইন মেনে পাথর কোয়ারি ইজারায় আলোচনা শুরু - NewsLiveBD.com

সিলেট ও সুনামগঞ্জে আইন মেনে পাথর কোয়ারি ইজারায় আলোচনা শুরু

ছবি সংগৃহীত

সিলেট ও সুনামগঞ্জে পরিবেশ ও আইন মেনে সীমিত আকারে পাথর কোয়ারি ইজারা দেওয়ার বিষয়ে নীতিগত আলোচনা শুরু করেছে সরকার। এ লক্ষ্যে জরিপ পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এজন্য সিলেট বিভাগীয় কমিশনারকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি গঠন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।

একইসঙ্গে পরিবেশগত ঝুঁকি, আদালতের নির্দেশনা ও পর্যটন এলাকা সংরক্ষণের বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সিলেট বিভাগের সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় পাথর আহরণ নিয়ে এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সিলেট বিভাগের সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় পাথর আহরণ নিয়ে সম্প্রতি একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে পরিবেশ সংক্রান্ত আইন ও বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করে এবং পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা’ (ইসিএ) ঘোষিত অঞ্চলগুলো বাদ রেখে কোথায় সীমিত পরিসরে পাথর উত্তোলন করা যেতে পারে, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, জাফলংয়ের মতো সংরক্ষিত এলাকা বাদ দিয়ে অন্যান্য স্থানে পরিবেশ রক্ষা করে কীভাবে পাথর উত্তোলন করা যায়, তা নির্ধারণে একটি সমন্বিত জরিপ পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এজন্য সিলেট বিভাগীয় কমিশনারকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি গঠন করা হচ্ছে।

কমিটিতে সিলেট ও সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক, পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, জিওলজিক্যাল সার্ভে অব বাংলাদেশের প্রতিনিধি, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক, খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের একজন পরিচালক এবং দুই জেলার পুলিশ সুপারকে সদস্য করা হবে। প্রয়োজনে কমিটি আরও বিশেষজ্ঞ অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে।

মন্ত্রী বলেন, কমিটি মাঠপর্যায়ে সরেজমিন পরিদর্শন করবে। বিশেষ করে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায় নদীতে পাথর ও বালি জমে পানিপ্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে কি না এবং নদী ভাঙনের কারণে সীমান্ত পরিবর্তনের ঝুঁকি আছে কি না, তা পরীক্ষা করা হবে। একই সঙ্গে কত গভীরতা পর্যন্ত পাথর উত্তোলন করলে পরিবেশের ক্ষতি কম হবে, সে বিষয়েও সুপারিশ দেবে কমিটি।

তিনি আরও বলেন, বিছানাকান্দি, ভোলাগঞ্জ ও সাদা পাথরসহ পর্যটন সম্ভাবনাময় এলাকাগুলো সংরক্ষণের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে। পর্যটক আকর্ষণের জন্য এসব এলাকা যাতে অক্ষত রাখা যায়, সে বিষয়ে সুপারিশ করবে কমিটি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং পাথর লুটপাট বা দুর্বৃত্তায়ন ঠেকাতে দুই জেলার পুলিশ সুপারকে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, আমরা পাথর আহরণ, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, সব বিষয় বিবেচনায় রেখে কিছু নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে চাই। আশা করছি চলতি মাসের শেষ নাগাদ কমিটির প্রতিবেদন পাওয়া যাবে। এরপর জুনের প্রথম সপ্তাহে আমরা আবার বৈঠকে বসবো।

তিনি বলেন, বিভিন্ন পাথর কোয়ারি নিয়ে হাইকোর্ট বিভাগের একাধিক আদেশ ও রায় রয়েছে। একটি মামলা সুপ্রিম কোর্টেও বিচারাধীন আছে। এছাড়া অন্য কোনো মামলা থাকলে সেগুলোর তথ্য সংগ্রহের জন্য জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয় ও অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের সঙ্গে সমন্বয় করে মামলাগুলোর নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে সরকার যা-ই করবে, তা আইন মেনে এবং আদালতের রায়কে সম্মান জানিয়েই করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সিলেট ও সুনামগঞ্জে আইন মেনে পাথর কোয়ারি ইজারায় আলোচনা শুরু

আপডেট: ০৩:৫৫:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

সিলেট ও সুনামগঞ্জে পরিবেশ ও আইন মেনে সীমিত আকারে পাথর কোয়ারি ইজারা দেওয়ার বিষয়ে নীতিগত আলোচনা শুরু করেছে সরকার। এ লক্ষ্যে জরিপ পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এজন্য সিলেট বিভাগীয় কমিশনারকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি গঠন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।

একইসঙ্গে পরিবেশগত ঝুঁকি, আদালতের নির্দেশনা ও পর্যটন এলাকা সংরক্ষণের বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সিলেট বিভাগের সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় পাথর আহরণ নিয়ে এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সিলেট বিভাগের সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় পাথর আহরণ নিয়ে সম্প্রতি একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে পরিবেশ সংক্রান্ত আইন ও বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করে এবং পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা’ (ইসিএ) ঘোষিত অঞ্চলগুলো বাদ রেখে কোথায় সীমিত পরিসরে পাথর উত্তোলন করা যেতে পারে, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, জাফলংয়ের মতো সংরক্ষিত এলাকা বাদ দিয়ে অন্যান্য স্থানে পরিবেশ রক্ষা করে কীভাবে পাথর উত্তোলন করা যায়, তা নির্ধারণে একটি সমন্বিত জরিপ পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এজন্য সিলেট বিভাগীয় কমিশনারকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি গঠন করা হচ্ছে।

কমিটিতে সিলেট ও সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক, পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, জিওলজিক্যাল সার্ভে অব বাংলাদেশের প্রতিনিধি, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক, খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের একজন পরিচালক এবং দুই জেলার পুলিশ সুপারকে সদস্য করা হবে। প্রয়োজনে কমিটি আরও বিশেষজ্ঞ অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে।

মন্ত্রী বলেন, কমিটি মাঠপর্যায়ে সরেজমিন পরিদর্শন করবে। বিশেষ করে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায় নদীতে পাথর ও বালি জমে পানিপ্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে কি না এবং নদী ভাঙনের কারণে সীমান্ত পরিবর্তনের ঝুঁকি আছে কি না, তা পরীক্ষা করা হবে। একই সঙ্গে কত গভীরতা পর্যন্ত পাথর উত্তোলন করলে পরিবেশের ক্ষতি কম হবে, সে বিষয়েও সুপারিশ দেবে কমিটি।

তিনি আরও বলেন, বিছানাকান্দি, ভোলাগঞ্জ ও সাদা পাথরসহ পর্যটন সম্ভাবনাময় এলাকাগুলো সংরক্ষণের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে। পর্যটক আকর্ষণের জন্য এসব এলাকা যাতে অক্ষত রাখা যায়, সে বিষয়ে সুপারিশ করবে কমিটি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং পাথর লুটপাট বা দুর্বৃত্তায়ন ঠেকাতে দুই জেলার পুলিশ সুপারকে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, আমরা পাথর আহরণ, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, সব বিষয় বিবেচনায় রেখে কিছু নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে চাই। আশা করছি চলতি মাসের শেষ নাগাদ কমিটির প্রতিবেদন পাওয়া যাবে। এরপর জুনের প্রথম সপ্তাহে আমরা আবার বৈঠকে বসবো।

তিনি বলেন, বিভিন্ন পাথর কোয়ারি নিয়ে হাইকোর্ট বিভাগের একাধিক আদেশ ও রায় রয়েছে। একটি মামলা সুপ্রিম কোর্টেও বিচারাধীন আছে। এছাড়া অন্য কোনো মামলা থাকলে সেগুলোর তথ্য সংগ্রহের জন্য জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয় ও অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের সঙ্গে সমন্বয় করে মামলাগুলোর নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে সরকার যা-ই করবে, তা আইন মেনে এবং আদালতের রায়কে সম্মান জানিয়েই করা হবে।